ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী কাগজপত্র লাগে? (A to Z গাইডলাইন)
বাংলাদেশে যেকোনো বৈধ ব্যবসা শুরু করার প্রথম এবং বাধ্যতামূলক আইনি ধাপ হলো ট্রেড লাইসেন্স (Trade License) সংগ্রহ করা। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ—ব্যবসা যেখানেই হোক না কেন, সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত না থাকলে লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় অযথা কালক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি হয়।
ব্যবসার ধরন ও ক্যাটাগরি ভেদে প্রয়োজনীয় নথিপত্রে কিছু ভিন্নতা থাকে। নিচে একমালিকানা থেকে শুরু করে বিশেষ ব্যবসার লাইসেন্স করার সম্পূর্ণ চেকলিস্ট বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
১. সাধারণ বা একমালিকানা (Proprietorship) ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ বা একক মালিকানাধীন ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে হয়:
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): উদ্যোক্তার মূল এনআইডি কার্ডের স্পষ্ট ফটোকপি বা অনলাইন কপি।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি: আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি (সাধারণত ২ থেকে ৩ কপি)।
- ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট: কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ট্যাক্স সার্টিফিকেটের হালনাগাদ কপি।
- ব্যবসার ঠিকানার প্রমাণপত্র:
- ভাড়া দোকান বা অফিস হলে: ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত দোকান/জায়গা ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি।
- নিজস্ব জায়গা হলে: সংশ্লিষ্ট এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্সের হালনাগাদ পরিশোধের রসিদ বা মালিকানার দলিল।
- ইউটিলিটি বিলের কপি: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির সাম্প্রতিক বিলের কপি।
২. যৌথ মূলধনী ও লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র
ব্যবসা যদি অংশীদারি (Partnership) বা লিমিটেড কোম্পানি হয়, তবে সাধারণ নথির পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত কর্পোরেট ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়:
- অংশীদারি কারবার (Partnership Firm): ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে পার্টনারশিপ চুক্তিপত্র (Partnership Deed) এবং সব অংশীদারের NID ও ছবি।
- প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি:
- মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA) ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA)।
- আরজেএসসি (RJSC) কর্তৃক ইস্যুকৃত ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (Certificate of Incorporation)।
- ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র।
৩. বিশেষ ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স
সাধারণ ব্যবসার বাইরে কিছু স্পর্শকাতর বা নিয়ন্ত্রিত খাতে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বিশেষ অনুমোদনপত্র বাধ্যতামূলক:
- ফার্মেসি বা ওষুধের ব্যবসা: সংশ্লিষ্ট ড্রাগ সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয়ের ড্রাগ লাইসেন্স (Drug License)।
- রেস্তোরাঁ ও খাদ্য ব্যবসা: বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসনের স্যানিটারি লাইসেন্স।
- কারখানা ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান: পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র এবং ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার সেফটি লাইসেন্স।
- ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) কর্তৃক অনুমোদিত ছাড়পত্র।আমদানি-রপ্তানি (Indenting/Export-Import): সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্সের মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট।
দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার কিছু কার্যকর টিপস
১ দিনে ট্রেড লাইসেন্স পেতে যোগাযোগ করুন : WHATSAPP এ
সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন: ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদের সঠিক 'ট্রেড কোড' নির্বাচন করুন; ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন করলে ফি জটিলতা বা আবেদন বাতিল হতে পারে।